দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কাজ করছে সরকার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হতে পারে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চরপাড়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানীর স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন ও উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং দেশে আবু তাহেরের মতো সফল উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছেন। মাত্র তিনটি গরু থাকলেই একটি পারিবারিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাইরে থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব হলে মানুষের জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ট্রেডকে আধুনিক ও পরিমার্জিত করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশের যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের আওতায় এনে বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় তরুণদের ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানী জানান, তাঁর স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে এলাকার ১৫টি পরিবারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জ্বালানির চাহিদা পূরণে আরও বেশি ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি খাতে অবদানের জন্য ইতিপূর্বে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানীর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

কক্সবাজার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিড ফাইন্স ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় খামারি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে দুই খামারিকে দুই লাখ টাকা করে ঋণ সহায়তার চেক দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।